📝 সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর (CQ)
তৃতীয় অধ্যায়: সংখ্যা পদ্ধতি ও ডিজিটাল ডিভাইস
HSC ICT মোট ১০টি CQসৃজনশীল প্রশ্ন - ০১
ক) উত্তর:
সংখ্যা পদ্ধতি হলো গণনা বা সংখ্যা প্রকাশ করার একটি পদ্ধতি যেখানে নির্দিষ্ট প্রতীক ব্যবহার করে সংখ্যা উপস্থাপন করা হয়।
খ) উত্তর:
পার্থক্য:
- পজিশনাল: সংখ্যার মান তার অবস্থানের উপর নির্ভর করে। যেমন: বাইনারি, দশমিক, অক্টাল, হেক্সাডেসিমেল।
- নন-পজিশনাল: সংখ্যার মান অবস্থানের উপর নির্ভর করে না। যেমন: রোমান সংখ্যা (I, V, X)।
গ) উত্তর:
(25)₁₀ কে বাইনারিতে রূপান্তর:
12 ÷ 2 = 6, ভাগশেষ = 0
6 ÷ 2 = 3, ভাগশেষ = 0
3 ÷ 2 = 1, ভাগশেষ = 1
1 ÷ 2 = 0, ভাগশেষ = 1
∴ (25)₁₀ = (11001)₂
ঘ) উত্তর:
হেক্সাডেসিমেলে রূপান্তর:
কম্পিউটারে বাইনারির গুরুত্ব:
- কম্পিউটার ইলেকট্রনিক সার্কিট দিয়ে তৈরি যা দুটি অবস্থা চেনে: ON (1) এবং OFF (0)।
- বাইনারি পদ্ধতি সার্কিট ডিজাইন সরল করে এবং ত্রুটি কমায়।
- বুলিয়ান অ্যালজেবরা ও লজিক গেট বাইনারি ভিত্তিক।
- হেক্সাডেসিমেল বাইনারির সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে প্রোগ্রামিংয়ে ব্যবহৃত হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন - ০২
ক) উত্তর:
BCD (Binary Coded Decimal) হলো এমন একটি কোড যেখানে দশমিক সংখ্যার প্রতিটি অঙ্ককে ৪ বিটের বাইনারি সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
খ) উত্তর:
ASCII (American Standard Code for Information Interchange) কোডে প্রতিটি ক্যারেক্টারের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা মান থাকে।
গ) উত্তর:
(47)₁₀ কে BCD কোডে রূপান্তর:
7 = 0111
∴ (47)₁₀ = 0100 0111 (BCD)
ঘ) উত্তর:
উদ্দীপকে উল্লিখিত কোডটি হলো ইউনিকোড (Unicode)।
- ইউনিকোড ১৬ বিটের কোড যা 2¹⁶ = 65,536 টি অদ্বিতীয় চিহ্ন প্রকাশ করতে পারে।
- বাংলা বর্ণমালার প্রতিটি অক্ষরের (ক-হ, া-ৌ, ০-৯) জন্য নির্দিষ্ট কোড বরাদ্দ।
- ASCII শুধু ইংরেজি সাপোর্ট করে (128/256 চিহ্ন), কিন্তু ইউনিকোড বিশ্বের সব ভাষা সাপোর্ট করে।
- এটি ডেটা আদান-প্রদানে সামঞ্জস্য আনে এবং বহুভাষিক সফটওয়্যার তৈরিতে সহায়ক।
সৃজনশীল প্রশ্ন - ০৩
ক) উত্তর:
বাইনারি সংখ্যার প্রতিটি বিট উল্টে দিলে (০ কে ১ এবং ১ কে ০) যে সংখ্যা পাওয়া যায় তাকে ১-এর পরিপূরক বলে।
খ) উত্তর:
২-এর পরিপূরক = ১-এর পরিপূরক + ১
এই পদ্ধতিতে ঋণাত্মক সংখ্যা প্রকাশ করা হয় এবং বিয়োগকে যোগে রূপান্তর করা যায়।
গ) উত্তর:
১-এর পরিপূরক = 11111010
২-এর পরিপূরক = 11111010 + 1 = 11111011
ঘ) উত্তর:
12 - 5 = 12 + (-5) করা হবে:
-5 এর ২-এর পরিপূরক = 11111011
যোগ: 00001100 + 11111011 = 100000111
ক্যারি বাদ দিলে: 00000111 = (7)₁₀ ✓
সুবিধাসমূহ:
- আলাদা বিয়োগ সার্কিটের প্রয়োজন নেই, একই অ্যাডার দিয়ে কাজ হয়।
- সার্কিট সরল হয় এবং খরচ কমে।
- ধনাত্মক ও ঋণাত্মক সংখ্যা একইভাবে প্রসেস করা যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন - ০৪
ক) উত্তর:
বুলিয়ান অ্যালজেবরা হলো গণিতের একটি শাখা যেখানে শুধুমাত্র দুটি মান (0 এবং 1) নিয়ে যৌক্তিক অপারেশন (AND, OR, NOT) করা হয়।
খ) উত্তর:
A.A' = 0 হলো বুলিয়ান অ্যালজেবরার পরিপূরক নীতি।
- যদি A = 0 হয়, তাহলে A' = 1, সুতরাং 0.1 = 0
- যদি A = 1 হয়, তাহলে A' = 0, সুতরাং 1.0 = 0
অর্থাৎ, কোনো চলক এবং তার পরিপূরকের AND সবসময় 0।
গ) উত্তর:
ডি মরগ্যানের ১ম উপপাদ্য: (A + B)' = A'.B'
এটি NOR গেটের সমতুল্য যা দুটি NOT গেট ও একটি AND গেট দিয়ে করা যায়।
ঘ) উত্তর:
= A(B + B') + A'B [B + B' = 1]
= A.1 + A'B
= A + A'B
= A + B [শোষণ সূত্র: A + A'B = A + B]
∴ AB + AB' + A'B = A + B
এর মাধ্যমে জটিল সার্কিটকে সহজ OR গেটে রূপান্তর করা গেল যা খরচ ও জটিলতা কমায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন - ০৫
ক) উত্তর:
লজিক গেট হলো ডিজিটাল সার্কিটের মৌলিক বিল্ডিং ব্লক যা এক বা একাধিক বাইনারি ইনপুট নিয়ে নির্দিষ্ট যৌক্তিক অপারেশনের মাধ্যমে একটি আউটপুট প্রদান করে।
খ) উত্তর:
NOT গেট বা ইনভার্টার ইনপুটের বিপরীত আউটপুট দেয়।
গ) উত্তর:
| A | B | Y = A.B |
|---|---|---|
| 0 | 0 | 0 |
| 0 | 1 | 0 |
| 1 | 0 | 0 |
| 1 | 1 | 1 |
AND গেটে সব ইনপুট 1 হলেই আউটপুট 1।
ঘ) উত্তর:
তিনটি মৌলিক গেট হলো: AND, OR, NOT
- AND: শর্তাধীন কাজে (দুটি শর্ত পূরণ হলে কাজ হবে)
- OR: বিকল্প কাজে (যেকোনো একটি শর্ত পূরণ হলে কাজ হবে)
- NOT: বিপরীত লজিকে (সংকেত উল্টানো)
এই তিনটি গেটের সমন্বয়ে NAND, NOR, XOR, XNOR সহ যেকোনো জটিল সার্কিট তৈরি করা যায়। এগুলো কম্পিউটার প্রসেসর, মেমরি ও সব ডিজিটাল ডিভাইসের ভিত্তি।
সৃজনশীল প্রশ্ন - ০৬
ক) উত্তর:
যে গেট ব্যবহার করে সকল মৌলিক গেট (AND, OR, NOT) তৈরি করা যায় তাকে সার্বজনীন গেট বলে। NAND ও NOR সার্বজনীন গেট।
খ) উত্তর:
- AND: সব ইনপুট 1 হলে আউটপুট 1। Y = A.B
- NAND: AND এর বিপরীত। সব ইনপুট 1 হলে আউটপুট 0। Y = (A.B)'
গ) উত্তর:
NAND গেটের দুই ইনপুটে একই সংকেত দিলে NOT গেট পাওয়া যায়।
অর্থাৎ NAND গেটের উভয় ইনপুটে A দিলে আউটপুট A' (NOT A)।
ঘ) উত্তর:
NAND গেটকে সার্বজনীন গেট বলার কারণ:
- NOT: NAND(A, A) = A'
- AND: NAND এর আউটপুটে NOT = (A.B)' এর NOT = A.B
- OR: NAND(A', B') = (A'.B')' = A + B (ডি মরগ্যান)
একই গেট ব্যবহারে উৎপাদন সহজ, খরচ কম এবং IC ডিজাইন সরল হয়। তাই ইন্ডাস্ট্রিতে NAND/NOR ভিত্তিক সার্কিট বেশি ব্যবহৃত।
সৃজনশীল প্রশ্ন - ০৭
ক) উত্তর:
XOR (Exclusive OR) গেট হলো এমন একটি গেট যেখানে ইনপুটগুলো অসমান হলে আউটপুট 1 এবং সমান হলে আউটপুট 0 হয়।
খ) উত্তর:
- XOR: ইনপুট ভিন্ন হলে আউটপুট 1। Y = A⊕B = A'B + AB'
- XNOR: ইনপুট সমান হলে আউটপুট 1। Y = (A⊕B)' = AB + A'B'
গ) উত্তর:
| A | B | দরজা (Y) |
|---|---|---|
| 0 | 0 | 0 (বন্ধ) |
| 0 | 1 | 1 (খোলা) |
| 1 | 0 | 1 (খোলা) |
| 1 | 1 | 0 (বন্ধ) |
ঘ) উত্তর:
উদ্দীপকে XOR গেট ব্যবহৃত হয়েছে।
কারণ বিশ্লেষণ:
- শর্ত: শুধু একটি বোতাম চাপলে দরজা খোলে = অসমান ইনপুটে আউটপুট 1
- এটি XOR গেটের বৈশিষ্ট্য: A⊕B = 1 যখন A ≠ B
- XOR যোগের সাম বিটের মতো কাজ করে (Half Adder এ ব্যবহৃত)
- প্যারিটি চেকার, এনক্রিপশন, তুলনা সার্কিটেও XOR ব্যবহৃত হয়
সৃজনশীল প্রশ্ন - ০৮
ক) উত্তর:
হাফ অ্যাডার হলো এমন একটি সার্কিট যা দুটি বাইনারি বিট যোগ করে Sum এবং Carry আউটপুট দেয়, কিন্তু পূর্ববর্তী ক্যারি গ্রহণ করতে পারে না।
খ) উত্তর:
- হাফ অ্যাডার: ২টি ইনপুট (A, B), পূর্ববর্তী ক্যারি নেয় না।
- ফুল অ্যাডার: ৩টি ইনপুট (A, B, Cin), পূর্ববর্তী ক্যারি নিতে পারে। প্রকৃত যোগের জন্য উপযোগী।
গ) উত্তর:
| A | B | Sum | Carry |
|---|---|---|---|
| 0 | 0 | 0 | 0 |
| 0 | 1 | 1 | 0 |
| 1 | 0 | 1 | 0 |
| 1 | 1 | 0 | 1 |
Carry = A.B (AND)
ঘ) উত্তর:
বহু-বিট যোগ (Ripple Carry Adder):
- প্রথম বিটে হাফ অ্যাডার ব্যবহার (কোনো পূর্ববর্তী ক্যারি নেই)
- বাকি প্রতিটি বিটে ফুল অ্যাডার ব্যবহার করা হয়
- প্রতিটি ফুল অ্যাডারের Cout পরবর্তী ফুল অ্যাডারের Cin হিসেবে যায়
- ৮-বিট যোগে ১টি হাফ অ্যাডার + ৭টি ফুল অ্যাডার লাগে
এভাবে চেইন করে CPU-তে ৩২/৬৪ বিট সংখ্যা যোগ করা হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন - ০৯
ক) উত্তর:
এনকোডার হলো এমন একটি সমন্বিত সার্কিট যা 2ⁿ সংখ্যক ইনপুট লাইন থেকে n সংখ্যক আউটপুট লাইন তৈরি করে, অর্থাৎ মানুষের ভাষাকে কম্পিউটারের ভাষায় রূপান্তর করে।
খ) উত্তর:
- এনকোডার: 2ⁿ ইনপুট → n আউটপুট। মানুষের ভাষা → মেশিন ভাষা।
- ডিকোডার: n ইনপুট → 2ⁿ আউটপুট। মেশিন ভাষা → মানুষের ভাষা।
গ) উত্তর:
৪ থেকে ২ লাইন এনকোডার (4×2 Encoder):
| D3 | D2 | D1 | D0 | Y1 | Y0 |
|---|---|---|---|---|---|
| 0 | 0 | 0 | 1 | 0 | 0 |
| 0 | 0 | 1 | 0 | 0 | 1 |
| 0 | 1 | 0 | 0 | 1 | 0 |
| 1 | 0 | 0 | 0 | 1 | 1 |
ঘ) উত্তর:
ক্যালকুলেটরে এনকোডার-ডিকোডারের ভূমিকা:
- ইনপুটে এনকোডার: কীবোর্ডের 0-9 বোতাম চাপলে সেই সংখ্যার বাইনারি কোড তৈরি হয় (10 to 4 line encoder)
- প্রসেসিং: CPU বাইনারিতে গাণিতিক অপারেশন করে
- আউটপুটে ডিকোডার: বাইনারি ফলাফলকে 7-সেগমেন্ট ডিসপ্লেতে দশমিক সংখ্যায় দেখায় (BCD to 7-segment decoder)
এভাবে এনকোডার-ডিকোডার মানুষ ও মেশিনের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন - ১০
ক) উত্তর:
ফ্লিপ-ফ্লপ হলো এক বিট তথ্য (0 বা 1) সংরক্ষণ করতে সক্ষম বাইস্টেবল মাল্টিভাইব্রেটর সার্কিট, যা ডিজিটাল মেমরির মৌলিক একক।
খ) উত্তর:
রেজিস্টার একাধিক ফ্লিপ-ফ্লপের সমন্বয়ে গঠিত যা একাধিক বিট ডেটা সংরক্ষণ করে।
- ৮-বিট রেজিস্টার = ৮টি ফ্লিপ-ফ্লপ = ১ বাইট ডেটা
- প্যারালাল রেজিস্টারে সব বিট একসাথে লোড/আনলোড হয়
- শিফট রেজিস্টারে বিট এক এক করে সরে
গ) উত্তর:
৩-বিট বাইনারি কাউন্টার:
মোট অবস্থা = 2³ = 8টি (000, 001, 010, 011, 100, 101, 110, 111)
ঘ) উত্তর:
ডিজিটাল ঘড়িতে ফ্লিপ-ফ্লপ ও কাউন্টারের ভূমিকা:
- MOD-60 কাউন্টার: সেকেন্ড (0-59) ও মিনিট (0-59) গণনায়। 60 পালসে রিসেট হয়ে পরবর্তী ইউনিটে পালস পাঠায়।
- MOD-12/24 কাউন্টার: ঘণ্টা গণনায় (12/24 ঘণ্টা ফরম্যাট)।
- ফ্লিপ-ফ্লপ: প্রতিটি কাউন্টারের ভেতরে ফ্লিপ-ফ্লপ বর্তমান গণনা মান সংরক্ষণ করে।
- ক্লক পালস: ১ সেকেন্ড পর পর পালস আসে যা কাউন্টারকে এক ধাপ এগিয়ে দেয়।
এভাবে ফ্লিপ-ফ্লপ ও কাউন্টার মিলে সময় গণনা ও প্রদর্শন করে।