তৃতীয় অধ্যায়: সংখ্যা পদ্ধতি ও ডিজিটাল ডিভাইস
Back to ChaptersNumber Systems and Digital Devices
📚 ৩.১ সংখ্যা পদ্ধতি (Number System)
সংজ্ঞা: সংখ্যা পদ্ধতি হলো গণনা বা সংখ্যা প্রকাশ করার একটি পদ্ধতি যেখানে
নির্দিষ্ট প্রতীক ব্যবহার করে সংখ্যা উপস্থাপন করা হয়।
সংখ্যা পদ্ধতির প্রকারভেদ:
- পজিশনাল (Positional): সংখ্যার মান তার অবস্থানের উপর নির্ভর করে। যেমন: বাইনারি, অক্টাল, দশমিক, হেক্সাডেসিমেল।
- নন-পজিশনাল (Non-positional): সংখ্যার মান অবস্থানের উপর নির্ভর করে না। যেমন: রোমান সংখ্যা (I, V, X, L, C)।
প্রধান সংখ্যা পদ্ধতিসমূহ:
| সংখ্যা পদ্ধতি | ভিত্তি (Base) | প্রতীক | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| বাইনারি (Binary) | ২ | ০, ১ | (1011)₂ |
| অক্টাল (Octal) | ৮ | ০-৭ | (753)₈ |
| দশমিক (Decimal) | ১০ | ০-৯ | (459)₁₀ |
| হেক্সাডেসিমেল (Hexadecimal) | ১৬ | ০-৯, A-F | (2AF)₁₆ |
📍 মনে রাখুন: হেক্সাডেসিমেলে A=10, B=11, C=12, D=13, E=14, F=15
🔄 ৩.২ সংখ্যা রূপান্তর (Number Conversion)
দশমিক থেকে বাইনারি:
উদাহরণ: (25)₁₀ কে বাইনারিতে রূপান্তর
25 ÷ 2 = 12, ভাগশেষ = 1
12 ÷ 2 = 6, ভাগশেষ = 0
6 ÷ 2 = 3, ভাগশেষ = 0
3 ÷ 2 = 1, ভাগশেষ = 1
1 ÷ 2 = 0, ভাগশেষ = 1
নিচ থেকে উপরে পড়ুন: (25)₁₀ = (11001)₂
25 ÷ 2 = 12, ভাগশেষ = 1
12 ÷ 2 = 6, ভাগশেষ = 0
6 ÷ 2 = 3, ভাগশেষ = 0
3 ÷ 2 = 1, ভাগশেষ = 1
1 ÷ 2 = 0, ভাগশেষ = 1
নিচ থেকে উপরে পড়ুন: (25)₁₀ = (11001)₂
বাইনারি থেকে দশমিক:
উদাহরণ: (1011)₂ কে দশমিকে রূপান্তর
= 1×2³ + 0×2² + 1×2¹ + 1×2⁰
= 8 + 0 + 2 + 1
= (11)₁₀
= 1×2³ + 0×2² + 1×2¹ + 1×2⁰
= 8 + 0 + 2 + 1
= (11)₁₀
বাইনারি-অক্টাল-হেক্সাডেসিমেল সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি:
- বাইনারি → অক্টাল: ডান দিক থেকে ৩টি করে বিট গ্রুপ করে অক্টাল মান লিখুন
- বাইনারি → হেক্সা: ডান দিক থেকে ৪টি করে বিট গ্রুপ করে হেক্সা মান লিখুন
📟 ৩.৩ কোড (Code)
BCD (Binary Coded Decimal):
BCD কোডে দশমিকের প্রতিটি অঙ্ককে ৪ বিটের বাইনারি দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
উদাহরণ: (47)₁₀ = 0100 0111 (BCD)
4 = 0100, 7 = 0111
4 = 0100, 7 = 0111
ASCII (American Standard Code for Information Interchange):
- ASCII-7: ৭ বিট, ২⁷ = ১২৮টি চিহ্ন
- ASCII-8: ৮ বিট, ২⁸ = ২৫৬টি চিহ্ন
- 'A' = 65, 'a' = 97, '0' = 48
ইউনিকোড (Unicode):
📍 গুরুত্বপূর্ণ: ইউনিকোড ১৬ বিটের কোড যা ২¹⁶ = ৬৫,৫৩৬টি অদ্বিতীয় চিহ্ন প্রকাশ
করতে পারে। বিশ্বের সব ভাষা (বাংলা সহ) সাপোর্ট করে।
➖ ৩.৪ পরিপূরক (Complement)
১-এর পরিপূরক (1's Complement):
বাইনারি সংখ্যার প্রতিটি বিট উল্টে দিলে (০→১, ১→০) ১-এর পরিপূরক পাওয়া যায়।
1011 এর ১-এর পরিপূরক = 0100
২-এর পরিপূরক (2's Complement):
২-এর পরিপূরক = ১-এর পরিপূরক + ১
উদাহরণ: (5)₁₀ এর ৮-বিট ২-এর পরিপূরক
5 = 00000101
১-এর পরিপূরক = 11111010
২-এর পরিপূরক = 11111010 + 1 = 11111011
5 = 00000101
১-এর পরিপূরক = 11111010
২-এর পরিপূরক = 11111010 + 1 = 11111011
📍 কম্পিউটারে বিয়োগ: কম্পিউটার সরাসরি বিয়োগ করতে পারে না। A - B = A + (-B এর
২-এর পরিপূরক)
🔢 ৩.৫ বুলিয়ান অ্যালজেবরা (Boolean Algebra)
বুলিয়ান অ্যালজেবরা হলো গণিতের একটি শাখা যেখানে শুধুমাত্র দুটি মান (0 এবং 1) নিয়ে যৌক্তিক
অপারেশন করা হয়।
মৌলিক অপারেশন:
| অপারেশন | প্রতীক | বর্ণনা |
|---|---|---|
| AND | A.B বা A∧B | উভয় ১ হলে ১ |
| OR | A+B বা A∨B | যেকোনো একটি ১ হলে ১ |
| NOT | A' বা Ā | বিপরীত মান |
গুরুত্বপূর্ণ উপপাদ্য:
- A + 0 = A, A + 1 = 1
- A . 0 = 0, A . 1 = A
- A + A = A, A . A = A
- A + A' = 1, A . A' = 0
- ডি মরগ্যান: (A+B)' = A'.B' এবং (A.B)' = A'+B'
🔲 ৩.৬ লজিক গেট (Logic Gate)
লজিক গেট হলো ডিজিটাল সার্কিটের মৌলিক বিল্ডিং ব্লক যা বাইনারি ইনপুট নিয়ে নির্দিষ্ট লজিক্যাল
অপারেশনের মাধ্যমে আউটপুট দেয়।
মৌলিক গেট (Basic Gates):
AND OR NOT
সার্বজনীন গেট (Universal Gates):
NAND NOR
📍 সার্বজনীন গেট: NAND বা NOR দিয়ে যেকোনো লজিক সার্কিট তৈরি করা যায়।
বিশেষ গেট (Special Gates):
XOR XNOR
সত্যক সারণি (Truth Table):
| A | B | AND | OR | NAND | NOR | XOR | XNOR |
|---|---|---|---|---|---|---|---|
| 0 | 0 | 0 | 0 | 1 | 1 | 0 | 1 |
| 0 | 1 | 0 | 1 | 1 | 0 | 1 | 0 |
| 1 | 0 | 0 | 1 | 1 | 0 | 1 | 0 |
| 1 | 1 | 1 | 1 | 0 | 0 | 0 | 1 |
➕ ৩.৭ অ্যাডার সার্কিট (Adder Circuit)
হাফ অ্যাডার (Half Adder):
- দুটি বিট যোগ করে
- ইনপুট: A, B
- আউটপুট: Sum = A⊕B (XOR), Carry = A.B (AND)
ফুল অ্যাডার (Full Adder):
- তিনটি বিট যোগ করে (দুটি বিট + পূর্ববর্তী ক্যারি)
- ইনপুট: A, B, Cin
- আউটপুট: Sum, Cout
- ২টি হাফ অ্যাডার + ১টি OR গেট দিয়ে তৈরি
🔄 ৩.৮ এনকোডার ও ডিকোডার
এনকোডার (Encoder):
কাজ: মানুষের ভাষা → মেশিন ভাষা
ইনপুট: 2ⁿ লাইন → আউটপুট: n লাইন
ইনপুট: 2ⁿ লাইন → আউটপুট: n লাইন
ডিকোডার (Decoder):
কাজ: মেশিন ভাষা → মানুষের ভাষা
ইনপুট: n লাইন → আউটপুট: 2ⁿ লাইন
ইনপুট: n লাইন → আউটপুট: 2ⁿ লাইন
💾 ৩.৯ ফ্লিপ-ফ্লপ, রেজিস্টার ও কাউন্টার
ফ্লিপ-ফ্লপ (Flip-Flop):
ফ্লিপ-ফ্লপ হলো এক বিট তথ্য (0 বা 1) সংরক্ষণ করতে সক্ষম বাইস্টেবল মাল্টিভাইব্রেটর সার্কিট, যা
ডিজিটাল মেমরির মৌলিক একক।
প্রকারভেদ: SR, JK, D, T ফ্লিপ-ফ্লপ
রেজিস্টার (Register):
- একাধিক ফ্লিপ-ফ্লপের সমন্বয়ে গঠিত
- ৮ বিট রেজিস্টার = ৮টি ফ্লিপ-ফ্লপ = ১ বাইট
- প্রকার: প্যারালাল ও শিফট রেজিস্টার
কাউন্টার (Counter):
- ইনপুট পালস গণনা করে
- n-বিট কাউন্টার 0 থেকে 2ⁿ-1 পর্যন্ত গুণতে পারে
- MOD-10 কাউন্টার: 0-9 গণনা করে (ডেকেড কাউন্টার)
- প্রকার: অ্যাসিনক্রোনাস (রিপল) ও সিনক্রোনাস
📝 গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
- বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি কেন কম্পিউটারে ব্যবহৃত হয়? — কম্পিউটার শুধু দুটি অবস্থা (ON/OFF) বুঝতে পারে।
- BCD কোড কত বিটের? — ৪ বিটের।
- ইউনিকোড কত বিটের? — ১৬ বিটের।
- মৌলিক লজিক গেট কয়টি ও কী কী? — ৩টি: AND, OR, NOT।
- সার্বজনীন গেট কোনগুলো? — NAND ও NOR।
- XOR গেটে আউটপুট কখন ১ হয়? — ইনপুট অসমান হলে।
- হাফ অ্যাডার তৈরিতে কোন গেট লাগে? — XOR ও AND।
- ফ্লিপ-ফ্লপ কত বিট সংরক্ষণ করে? — ১ বিট।