📝 পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর
ইউনিট ৬: প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি
Course Code: 219903উত্তর:
সাইবার ক্রাইম: কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধকে সাইবার ক্রাইম বলে।
প্রধান ধরন:
- হ্যাকিং: অননুমোদিতভাবে সিস্টেমে প্রবেশ
- ফিশিং: প্রতারণামূলক ইমেইল/ওয়েবসাইটে তথ্য চুরি
- র্যানসমওয়্যার: ডাটা লক করে মুক্তিপণ দাবি
- আইডেন্টিটি থেফট: পরিচয় চুরি
- সাইবার বুলিং: অনলাইনে হয়রানি
- ফেক নিউজ: মিথ্যা তথ্য ছড়ানো
উত্তর:
ম্যালওয়্যার: Malicious Software-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। ক্ষতিকারক সফটওয়্যার যা কম্পিউটারের ক্ষতি করে।
| ধরন | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| Virus | অন্য ফাইলে সংযুক্ত হয়ে ছড়ায়, ফাইল নষ্ট করে |
| Worm | নিজে নিজে ছড়ায়, নেটওয়ার্কে আক্রমণ |
| Trojan | দরকারী সফটওয়্যারের ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকে |
| Spyware | গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে |
| Ransomware | ডাটা এনক্রিপ্ট করে মুক্তিপণ দাবি করে |
| Adware | অবাঞ্ছিত বিজ্ঞাপন দেখায় |
উত্তর:
এনক্রিপশন: তথ্যকে কোডে রূপান্তর করা যাতে শুধু অনুমোদিত ব্যক্তি পড়তে পারে।
ধরন:
- Symmetric Encryption: একই কী দিয়ে এনক্রিপ্ট ও ডিক্রিপ্ট (যেমন: AES)
- Asymmetric Encryption: দুটি কী - Public Key ও Private Key (যেমন: RSA)
গুরুত্ব:
- ডাটা গোপনীয়তা রক্ষা
- অনলাইন লেনদেন নিরাপদ করা
- পাসওয়ার্ড সুরক্ষা
- ইমেইল ও মেসেজ সুরক্ষা
উত্তর:
- দৈর্ঘ্য: কমপক্ষে ৮-১২ অক্ষর
- মিশ্রণ: বড় হাতের অক্ষর (A-Z), ছোট হাতের অক্ষর (a-z), সংখ্যা (0-9), বিশেষ চিহ্ন (!@#$)
- অনন্য: প্রতি অ্যাকাউন্টে ভিন্ন পাসওয়ার্ড
- অনুমান অযোগ্য: নাম, জন্মতারিখ ব্যবহার না করা
- নিয়মিত পরিবর্তন: ৩-৬ মাস পরপর বদলানো
✅ শক্তিশালী: P@ssw0rd$2024!, Str0ng#Key!
উত্তর:
ডিজিটাল নাগরিকত্ব: অনলাইনে দায়িত্বশীল ও নৈতিক আচরণকে ডিজিটাল নাগরিকত্ব বলে।
প্রধান দিক:
- অন্যের প্রাইভেসি সম্মান করা
- কপিরাইট আইন মেনে চলা
- Netiquette (অনলাইন শিষ্টাচার) অনুসরণ
- সাইবার বুলিং থেকে বিরত থাকা
- মিথ্যা তথ্য না ছড়ানো
বাংলাদেশ ICT আইন ২০০৬: সাইবার অপরাধের শাস্তি ও ডিজিটাল লেনদেনের আইনি ভিত্তি।
উত্তর:
ডিজিটাল স্বাক্ষর (Digital Signature): ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর যা ডকুমেন্টের সত্যতা ও প্রেরকের পরিচয় নিশ্চিত করে।
সুবিধাসমূহ:
- সত্যতা যাচাই (Authentication): প্রেরকের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়
- অখণ্ডতা (Integrity): ডকুমেন্ট পরিবর্তন হয়েছে কিনা যাচাই করা যায়
- অস্বীকার-প্রতিরোধ (Non-repudiation): প্রেরক পরবর্তীতে অস্বীকার করতে পারে না
- নিরাপত্তা: জালিয়াতি রোধ করা যায়, এনক্রিপশন দ্বারা সুরক্ষিত
- আইনি গ্রহণযোগ্যতা: আইনত বৈধ ও আদালতে গ্রহণযোগ্য
- সময় সাশ্রয়: কাগজপত্র প্রিন্ট, সই ও স্ক্যান করার দরকার নেই
- পরিবেশবান্ধব: কাগজের ব্যবহার কমায়
উত্তর:
| বিষয় | DoS (Denial of Service) | DDoS (Distributed DoS) |
|---|---|---|
| সংজ্ঞা | একটি কম্পিউটার/সোর্স থেকে সার্ভারে অতিরিক্ত রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে অচল করা | একাধিক কম্পিউটার/সোর্স থেকে একযোগে সার্ভারে আক্রমণ |
| আক্রমণের উৎস | একটি মাত্র কম্পিউটার | শত/হাজার কম্পিউটার (Botnet) |
| তীব্রতা | অপেক্ষাকৃত কম | অনেক বেশি ও ভয়াবহ |
| প্রতিরোধ | IP Block করে সহজে ঠেকানো যায় | ঠেকানো অনেক কঠিন |
| খরচ | কম খরচে সম্ভব | বেশি রিসোর্স ও পরিকল্পনা দরকার |
উত্তর:
Plagiarism (সাহিত্য চুরি): অন্যের কাজ, ধারণা, লেখা বা গবেষণা নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বা যথাযথ কৃতজ্ঞতা (credit) না দেওয়াকে Plagiarism বলা হয়।
শিক্ষাগত ক্ষেত্রে ক্ষতি:
- শিক্ষার মান হ্রাস: শিক্ষার্থী নিজে কিছু শেখে না, জ্ঞান অর্জন বাধাগ্রস্ত হয়
- পরীক্ষায় ব্যর্থতা: একাডেমিক বহিষ্কার বা পরীক্ষা বাতিল হতে পারে
- সনদপত্রের মূল্য হ্রাস: ডিগ্রি বা সার্টিফিকেটের গ্রহণযোগ্যতা কমে
- গবেষণার মান নষ্ট: গবেষণাপত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়
- সৃজনশীলতা হ্রাস: মৌলিক চিন্তা ও গবেষণার প্রবণতা কমে যায়
পেশাগত ক্ষেত্রে ক্ষতি:
- আইনি জটিলতা: কপিরাইট লঙ্ঘনে মামলা ও জরিমানা হতে পারে
- সুনাম ক্ষুণ্ণ: ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হয়
- চাকরি হারানো: পেশাদার জগতে Plagiarism ধরা পড়লে চাকরিচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি
- আর্থিক ক্ষতি: ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে
- বিশ্বাসযোগ্যতা হারানো: সহকর্মী ও গ্রাহকদের আস্থা নষ্ট হয়
উত্তর:
Social Engineering (সামাজিক প্রকৌশল): এটি এমন একটি হ্যাকিং কৌশল যেখানে প্রযুক্তিগত ত্রুটির বদলে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে গোপন তথ্য (পাসওয়ার্ড, ব্যাংক ডিটেইলস) হাতিয়ে নেওয়া হয়।
Phishing (ফিশিং): ফিশিং হলো সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর সবচেয়ে পরিচিত রূপ। এতে আক্রমণকারী বিশ্বস্ত কোনো প্রতিষ্ঠান (যেমন: ব্যাংক বা ফেসবুক) এর ছদ্মবেশে ইমেইল বা মেসেজ পাঠায়, যেখানে একটি ভুয়া লিংক থাকে। ব্যবহারকারী সেই লিংকে ক্লিক করে লগইন করলেই তার তথ্য হ্যাকারের কাছে চলে যায়।
মানুষের আচরণকে কাজে লাগানো:
- ভয় ও কৌতূহল: "আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে" বা "আপনি লটারি জিতেছেন" এমন প্রলোভন বা ভয় দেখিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
- বিশ্বাসযোগ্যতা: পরিচিত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে বিশ্বাস অর্জন করে।
- সাহায্যের আবেদন: সহানুভূতি কাজে লাগিয়ে মিথ্যা বিপদের কথা বলে টাকা চাওয়া হয়।
উত্তর:
ডিজিটাল বিশ্বে নৈতিকতার গুরুত্ব: ডিজিটাল দুনিয়ায় সঠিক আচরণ ও নিয়মকানুন মেনে চলাকে ডিজিটাল নৈতিকতা বলে। এর মাধ্যমে সাইবার অপরাধ হ্রাস পায়, পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকে এবং নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত হয়।
তথ্যের গোপনীয়তা (Data Privacy): ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ব্রাউজিং হিস্টোরি) তার অনুমতি ছাড়া সংগ্রহ, ব্যবহার বা বিক্রি না করার অধিকারই হলো তথ্যের গোপনীয়তা। প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারকারীর তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়।
মেধাস্বত্ব (Intellectual Property): অনলাইনে অন্য কারো লেখা, ছবি, সফটওয়্যার বা আবিষ্কার নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া বেআইনি। প্রকৃত মালিকের অনুমতি নেওয়া বা তাকে ক্রেডিট দেওয়া মেধাস্বত্ব অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।
নিরাপদ ডিজিটাল চর্চা: শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা, অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার, এবং অনলাইনে কারো সাথে খারাপ আচরণ (সাইবার বুলিং) না করা নিরাপদ ডিজিটাল চর্চার অংশ।